ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বব্যাপী চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় নেতৃত্বের পথে বাংলাদেশ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদ

 

 

বিশ্বব্যাপী চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই এক অনন্য নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছাতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. এম এ মুহিত। বিশ্বে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘গ্লোবাল সামিট অন আই হেলথ’-এর সহ-আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের সম্মতির বিষয়টি দেশের স্বাস্থ্যখাতের সংস্কারকে বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

​বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশে অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস কমাতে চক্ষু চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ রোডম্যাপ’ শীর্ষক এক প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সমন্বিত ‘ন্যাশনাল আই কেয়ার প্ল্যান’

প্রতিমন্ত্রী জানান, শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি ‘ন্যাশনাল আই কেয়ার প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে একটি ‘ন্যাশনাল স্টেকহোল্ডার ওয়ার্কশপ’ অনুষ্ঠিত হবে এবং আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ‘স্পেক্স ২০৩০’ ইনিশিয়েটিভ।

অগ্রাধিকার তালিকায় যা থাকছে

চক্ষু সেবার উন্নয়নে তিনটি মূল বিষয়ের ওপর জোর দেন ড. এম এ মুহিত:

  • ছানি অপারেশন: দেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ ছানিজনিত কারণে অন্ধত্বের শিকার। তাদের দ্রুত অস্ত্রোপচারের আওতায় আনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
  • চশমার সহজলভ্যতা: চশমার অভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া এবং কর্মক্ষম মানুষের উৎপাদনশীলতা হ্রাসের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি সব বয়সের মানুষের জন্য বিনামূল্যে ও সহজে চশমা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

    • ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি স্ক্রিনিং: দ্রুত বর্ধনশীল অসংক্রামক রোগ ডায়াবেটিস থেকে দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় জেলা পর্যায় পর্যন্ত দ্রুত ‘ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি স্ক্রিনিং’ সেবা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

​প্রতিমন্ত্রী বলেন, “হেলথ ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের এই যুগান্তকারী পরিবর্তন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনন্য নজির স্থাপন করবে।”

​সভায় স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এস এম ক্বাদির, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ড. ওয়াতিন আলম, আর্ক ফাউন্ডেশনের পরিচালক রোমানা হক এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৪:৩৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
৬ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বব্যাপী চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় নেতৃত্বের পথে বাংলাদেশ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:৩৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

 

 

বিশ্বব্যাপী চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই এক অনন্য নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছাতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. এম এ মুহিত। বিশ্বে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘গ্লোবাল সামিট অন আই হেলথ’-এর সহ-আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের সম্মতির বিষয়টি দেশের স্বাস্থ্যখাতের সংস্কারকে বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

​বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশে অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস কমাতে চক্ষু চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ রোডম্যাপ’ শীর্ষক এক প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সমন্বিত ‘ন্যাশনাল আই কেয়ার প্ল্যান’

প্রতিমন্ত্রী জানান, শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি ‘ন্যাশনাল আই কেয়ার প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে একটি ‘ন্যাশনাল স্টেকহোল্ডার ওয়ার্কশপ’ অনুষ্ঠিত হবে এবং আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ‘স্পেক্স ২০৩০’ ইনিশিয়েটিভ।

অগ্রাধিকার তালিকায় যা থাকছে

চক্ষু সেবার উন্নয়নে তিনটি মূল বিষয়ের ওপর জোর দেন ড. এম এ মুহিত:

  • ছানি অপারেশন: দেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ ছানিজনিত কারণে অন্ধত্বের শিকার। তাদের দ্রুত অস্ত্রোপচারের আওতায় আনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
  • চশমার সহজলভ্যতা: চশমার অভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া এবং কর্মক্ষম মানুষের উৎপাদনশীলতা হ্রাসের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি সব বয়সের মানুষের জন্য বিনামূল্যে ও সহজে চশমা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

    • ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি স্ক্রিনিং: দ্রুত বর্ধনশীল অসংক্রামক রোগ ডায়াবেটিস থেকে দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় জেলা পর্যায় পর্যন্ত দ্রুত ‘ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি স্ক্রিনিং’ সেবা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

​প্রতিমন্ত্রী বলেন, “হেলথ ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের এই যুগান্তকারী পরিবর্তন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনন্য নজির স্থাপন করবে।”

​সভায় স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এস এম ক্বাদির, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ড. ওয়াতিন আলম, আর্ক ফাউন্ডেশনের পরিচালক রোমানা হক এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।