ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখতে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব সংবাদ

 

 

ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন ও ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন দেশের জনগণের প্রধান দায়িত্ব।

​বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিগত স্বৈরাচারী সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের বিচারের বিষয়ে সরকার অনড় অবস্থানে রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেফতার এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।”

​রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই, বরং আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক—আমরা সেটাই চাই।”

তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যক্তি শেখ হাসিনার পাশাপাশি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকেও গণহত্যার দায়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সম্ভব হবে।

তিনি নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টান্ত টেনে বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে যারা শিশু ও নারী হত্যার মতো গণহত্যা চালিয়েছে, তার দায় কোনোভাবেই আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।

জুলাই বিপ্লব ও রাষ্ট্র সংস্কার

জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগানের মাধ্যমে ইতিহাসের যে গতিপথ বদলে গিয়েছিল, সেই আন্দোলনের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন ছিল।”

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে ৩১ দফার আলোকেই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে।”

​আওয়ামী লীগ জুলাইয়ের শহীদদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ করে মন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কোনো একক দলের নয়, বরং এটি এ দেশের সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের ফসল। স্বৈরাচারের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিতে গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

​ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৪:৩১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখতে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৪:৩১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

 

 

ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন ও ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন দেশের জনগণের প্রধান দায়িত্ব।

​বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিগত স্বৈরাচারী সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের বিচারের বিষয়ে সরকার অনড় অবস্থানে রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেফতার এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।”

​রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই, বরং আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক—আমরা সেটাই চাই।”

তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যক্তি শেখ হাসিনার পাশাপাশি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকেও গণহত্যার দায়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সম্ভব হবে।

তিনি নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টান্ত টেনে বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে যারা শিশু ও নারী হত্যার মতো গণহত্যা চালিয়েছে, তার দায় কোনোভাবেই আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।

জুলাই বিপ্লব ও রাষ্ট্র সংস্কার

জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগানের মাধ্যমে ইতিহাসের যে গতিপথ বদলে গিয়েছিল, সেই আন্দোলনের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন ছিল।”

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে ৩১ দফার আলোকেই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে।”

​আওয়ামী লীগ জুলাইয়ের শহীদদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ করে মন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কোনো একক দলের নয়, বরং এটি এ দেশের সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের ফসল। স্বৈরাচারের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিতে গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

​ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।