ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই বছরে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল রূপান্তর: ইউজিসি চেয়ারম্যান

নিজস্ব সংবাদ

 

 

 

আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বা ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ও প্রান্তিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যমান ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

​বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব কথা বলেন।

ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা

ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমের প্রথম ধাপে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ক্লাসরুম, আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা অবকাঠামো এবং ‘স্মার্ট ক্যাম্পাস’ গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, “এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের যেকোনো অঞ্চলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা এবং ডিজিটাল জ্ঞানভান্ডার ব্যবহারের সমান সুযোগ পাবেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন ঘটবে এবং বৈশ্বিক জ্ঞানচর্চার সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সম্পৃক্ত হতে পারবেন।”

শিক্ষার মান ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠন

শিক্ষকদের দক্ষতা ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশের গ্র্যাজুয়েটদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তাঁরা বিশ্বের যেকোনো দেশের কর্মবাজারে যোগ্যতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।” সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যাশা

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের ২৫টি বিভাগে প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী আউটকাম-বেইজড কারিকুলামে শিক্ষা গ্রহণ করছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সম্প্রসারণ, নতুন বিভাগ চালু, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ইউজিসির বিশেষ সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

‘নজরুল সিটি’ বাস্তবায়নের আহ্বান

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান প্রতিবছর নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘নজরুল সিটি’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

​অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৪:২০:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
১ বার পড়া হয়েছে

দুই বছরে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল রূপান্তর: ইউজিসি চেয়ারম্যান

আপডেট সময় ০৪:২০:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

 

 

 

আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বা ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ও প্রান্তিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যমান ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

​বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব কথা বলেন।

ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা

ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমের প্রথম ধাপে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ক্লাসরুম, আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা অবকাঠামো এবং ‘স্মার্ট ক্যাম্পাস’ গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, “এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের যেকোনো অঞ্চলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা এবং ডিজিটাল জ্ঞানভান্ডার ব্যবহারের সমান সুযোগ পাবেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন ঘটবে এবং বৈশ্বিক জ্ঞানচর্চার সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সম্পৃক্ত হতে পারবেন।”

শিক্ষার মান ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠন

শিক্ষকদের দক্ষতা ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশের গ্র্যাজুয়েটদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তাঁরা বিশ্বের যেকোনো দেশের কর্মবাজারে যোগ্যতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।” সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যাশা

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের ২৫টি বিভাগে প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী আউটকাম-বেইজড কারিকুলামে শিক্ষা গ্রহণ করছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সম্প্রসারণ, নতুন বিভাগ চালু, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ইউজিসির বিশেষ সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

‘নজরুল সিটি’ বাস্তবায়নের আহ্বান

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান প্রতিবছর নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘নজরুল সিটি’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

​অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।