ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিল্পকলা একাডেমিতে সুর ও ছন্দে উদযাপিত জাতীয় কবির সাহিত্য-দর্শন

নিজস্ব সংবাদ

 

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্য ও প্রেমের দর্শনের ছোঁয়ায় মুখর ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

 

 

বর্ষা ঋতুকে কেন্দ্র করে কবির সৃষ্ট সাহিত্য ও সংগীতের সম্ভার নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ‘বর্ষায় নজরুল’ শীর্ষক সাহিত্য-সংগীত সন্ধ্যা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি নতুন প্রজন্মের মাঝে চিরন্তন নজরুলকে নতুন করে তুলে ধরার এক অনন্য প্রয়াস ছিল।

 

 

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, “বাংলাদেশের ষড়ঋতুকে নজরুল গভীরভাবে ভালোবেসেছিলেন।

 

তার গানে ও কবিতায় বাংলাদেশের প্রকৃতি যেভাবে উঠে এসেছে, তা আমাদের বিস্মিত করে। নজরুলের শ্রাবণ নিয়ে রচিত গান ও বৃষ্টির বর্ণনামূলক কবিতা আমাদের হৃদয়কে গভীর আবেশে সম্মোহিত করে রাখে।”

 

 

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব কানিজ মওলা এবং যুগ্মসচিব মোহাঃ হারুন-অর-রশীদ। আয়োজনের শুরুতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

 

 

​সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনায় সমবেত নৃত্য এবং কণ্ঠশিল্পীদের সমবেত সংগীতে দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন। এরপর একে একে মঞ্চে আসেন দেশের বরেণ্য সব নজরুল সংগীত শিল্পী। বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা, ফেরদৌস আরা, ইয়াসমীন মুস্তারী, খায়রুল আলম শাকিল ও প্রিয়াংকা গোপের একক পরিবেশনা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।

 

 

​নৃত্য ও সংগীতের মেলবন্ধনে পুরো মিলনায়তন যেন বর্ষার স্নিগ্ধতায় ভরে ওঠে। এস আর ওয়সেক-এর পরিচালনায় নন্দন কলাকেন্দ্র, ফারহানা চৌধুরীর পরিচালনায় বাংলাদেশ একাডেমি অফ ফাইন আর্টস এবং কবিরুল ইসলাম রতনের পরিচালনায় নৃত্যালোক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনা ছিল দেখার মতো। সবশেষে সৃষ্টি কালচারাল সেন্টারের ‘গরজে গম্ভীর গগনে কম্বু’ সমবেত নৃত্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

 

 

​অনুষ্ঠানে ফেরদৌস আরা, ইয়াকুব আলী খান, শহীদ কবির পলাশ, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, তানভীর আলম সজীবসহ জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে জাতীয় কবির বর্ষানির্ভর গানের এক অনন্য সংকলন পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের নজরুলের সৃজনশীল জগতের গভীরে নিয়ে যায়।

 

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৪:১৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
৬ বার পড়া হয়েছে

শিল্পকলা একাডেমিতে সুর ও ছন্দে উদযাপিত জাতীয় কবির সাহিত্য-দর্শন

আপডেট সময় ০৪:১৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

 

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্য ও প্রেমের দর্শনের ছোঁয়ায় মুখর ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

 

 

বর্ষা ঋতুকে কেন্দ্র করে কবির সৃষ্ট সাহিত্য ও সংগীতের সম্ভার নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ‘বর্ষায় নজরুল’ শীর্ষক সাহিত্য-সংগীত সন্ধ্যা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি নতুন প্রজন্মের মাঝে চিরন্তন নজরুলকে নতুন করে তুলে ধরার এক অনন্য প্রয়াস ছিল।

 

 

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, “বাংলাদেশের ষড়ঋতুকে নজরুল গভীরভাবে ভালোবেসেছিলেন।

 

তার গানে ও কবিতায় বাংলাদেশের প্রকৃতি যেভাবে উঠে এসেছে, তা আমাদের বিস্মিত করে। নজরুলের শ্রাবণ নিয়ে রচিত গান ও বৃষ্টির বর্ণনামূলক কবিতা আমাদের হৃদয়কে গভীর আবেশে সম্মোহিত করে রাখে।”

 

 

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব কানিজ মওলা এবং যুগ্মসচিব মোহাঃ হারুন-অর-রশীদ। আয়োজনের শুরুতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

 

 

​সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনায় সমবেত নৃত্য এবং কণ্ঠশিল্পীদের সমবেত সংগীতে দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন। এরপর একে একে মঞ্চে আসেন দেশের বরেণ্য সব নজরুল সংগীত শিল্পী। বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা, ফেরদৌস আরা, ইয়াসমীন মুস্তারী, খায়রুল আলম শাকিল ও প্রিয়াংকা গোপের একক পরিবেশনা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।

 

 

​নৃত্য ও সংগীতের মেলবন্ধনে পুরো মিলনায়তন যেন বর্ষার স্নিগ্ধতায় ভরে ওঠে। এস আর ওয়সেক-এর পরিচালনায় নন্দন কলাকেন্দ্র, ফারহানা চৌধুরীর পরিচালনায় বাংলাদেশ একাডেমি অফ ফাইন আর্টস এবং কবিরুল ইসলাম রতনের পরিচালনায় নৃত্যালোক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনা ছিল দেখার মতো। সবশেষে সৃষ্টি কালচারাল সেন্টারের ‘গরজে গম্ভীর গগনে কম্বু’ সমবেত নৃত্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

 

 

​অনুষ্ঠানে ফেরদৌস আরা, ইয়াকুব আলী খান, শহীদ কবির পলাশ, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, তানভীর আলম সজীবসহ জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে জাতীয় কবির বর্ষানির্ভর গানের এক অনন্য সংকলন পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের নজরুলের সৃজনশীল জগতের গভীরে নিয়ে যায়।