ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধের প্রভাবে বন্ধ বাংলাদেশের সবজি রপ্তানি

নিজস্ব সংবাদ

 

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের সবজি রপ্তানি খাতে লেগেছে বড় ধরনের ধাক্কা। আকাশপথ ও বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় প্রধান বাজারগুলোতে বাংলাদেশ থেকে সবজি পাঠানো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে রপ্তানিকারক, ব্যবসায়ী ও কৃষক সবাই অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

 

রপ্তানিকারকদের সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত মাসের ২৮ তারিখ রাত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ দেশে সবজি পাঠানো কার্যত বন্ধ। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও কুয়েত—এই পাঁচটি দেশেই বাংলাদেশের সবজি রপ্তানির বড় অংশ যায়। এর মধ্যে বেশি রপ্তানি হয় লাউ, কুমড়া, পটোল, বেগুন, ঢেঁড়স, আলু, পেঁপে, চিচিঙ্গা, কাঁকরোল, কাঁচা মরিচ, বরবটি, শিম, টমেটো ও বিভিন্ন ধরনের শাক। পচনশীল বলে আলু ছাড়া এসব পরিবহন করতে হচ্ছে কার্গো বিমানে।

 

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব দেশে নিয়মিত কার্গো ফ্লাইট না থাকায় পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ মনসুর জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মোট সবজি রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশ যায় মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে। বাকি প্রায় ৪০ শতাংশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। কিন্তু ইউরোপে পাঠানো পণ্যের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দর হয়ে ট্রানজিট নেয়। ফলে ওই অঞ্চলের বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপের বাজারেও রপ্তানি কমে গেছে। বর্তমানে মোট রপ্তানির মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কার্যক্রম চালু রয়েছে।

 

ইপিবির তথ্য বলছে, দেশের সবজি রপ্তানি গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৮.৬৪ শতাংশ কমেছে। যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সবজি রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ১১ কোটি ২৪ লাখ ডলারের, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় আট কোটি ১১ লাখ ডলারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৭:৩৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
১৯৫ বার পড়া হয়েছে

যুদ্ধের প্রভাবে বন্ধ বাংলাদেশের সবজি রপ্তানি

আপডেট সময় ০৭:৩৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

 

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের সবজি রপ্তানি খাতে লেগেছে বড় ধরনের ধাক্কা। আকাশপথ ও বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় প্রধান বাজারগুলোতে বাংলাদেশ থেকে সবজি পাঠানো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে রপ্তানিকারক, ব্যবসায়ী ও কৃষক সবাই অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

 

রপ্তানিকারকদের সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত মাসের ২৮ তারিখ রাত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ দেশে সবজি পাঠানো কার্যত বন্ধ। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও কুয়েত—এই পাঁচটি দেশেই বাংলাদেশের সবজি রপ্তানির বড় অংশ যায়। এর মধ্যে বেশি রপ্তানি হয় লাউ, কুমড়া, পটোল, বেগুন, ঢেঁড়স, আলু, পেঁপে, চিচিঙ্গা, কাঁকরোল, কাঁচা মরিচ, বরবটি, শিম, টমেটো ও বিভিন্ন ধরনের শাক। পচনশীল বলে আলু ছাড়া এসব পরিবহন করতে হচ্ছে কার্গো বিমানে।

 

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব দেশে নিয়মিত কার্গো ফ্লাইট না থাকায় পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ মনসুর জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মোট সবজি রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশ যায় মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে। বাকি প্রায় ৪০ শতাংশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। কিন্তু ইউরোপে পাঠানো পণ্যের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দর হয়ে ট্রানজিট নেয়। ফলে ওই অঞ্চলের বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপের বাজারেও রপ্তানি কমে গেছে। বর্তমানে মোট রপ্তানির মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কার্যক্রম চালু রয়েছে।

 

ইপিবির তথ্য বলছে, দেশের সবজি রপ্তানি গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৮.৬৪ শতাংশ কমেছে। যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সবজি রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ১১ কোটি ২৪ লাখ ডলারের, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় আট কোটি ১১ লাখ ডলারে।