নেটফ্লিক্সকে পরাজিত করে ওয়ার্নার ব্রাদার্স কিনে নিলো প্যারামাউন্ট
দীর্ঘ কয়েক মাসের দরকষাকষি ও প্রতিযোগিতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ১১০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল চুক্তিতে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি কিনে নিয়েছে প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স। এর মাধ্যমে হলিউডের বিনোদন জগতে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন এক কর্পোরেট অধ্যায়। এটি চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে শুরু করে প্রদর্শন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সবকিছুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি তাদের শেয়ার প্রতি ৩১ ডলারের প্রস্তাব গ্রহণ করে। এই প্রস্তাব দেয় প্যারামাউন্ট। তারা স্কাইড্যান্স এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলের সমর্থনে বিড করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্স শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়। এই অধিগ্রহণের মাধ্যমে হলিউডের অন্যতম ঐতিহাসিক স্টুডিও নতুন মালিকানার অধীনে যাচ্ছে।
এর ফলে ভবিষ্যতে কোন সিনেমা নির্মিত হবে, কোথায় দেখানো হবে এবং দর্শকরা কী ধরনের বিনোদন পাবেন এসব সিদ্ধান্ত এখন বড় কর্পোরেট কাঠামোর ওপর নির্ভর করবে। ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ইতিহাস প্রায় এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। ১৯২৩ সালে চার ভাই হ্যারি ওয়ার্নার, অ্যালবার্ট ওয়ার্নার, স্যাম ওয়ার্নার এবং জ্যাক এল. ওয়ার্নার এই স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৬ সালে জ্যাক ওয়ার্নারের নিয়ন্ত্রণাধীন শেয়ার কিনে নেয় সেভেন আর্টস প্রোডাকশনস। এরপর কোম্পানির নাম হয় ওয়ার্নার ব্রাদার্স-সেভেন আর্টস।
১৯৬৯ সালে কিনে নেয় কিনি ন্যাশনাল কোম্পানি। এরপর নাম পরিবর্তন হয়ে হয় ওয়ার্নার ব্রাদার্স ইনকর্পোরেটেড, পরে ওয়ার্নার কমিউনিকেশনস। ১৯৮৯ সালে টাইম ইনকর্পোরেটেডের সঙ্গে একীভূত হয়ে তৈরি হয় টাইম ওয়ার্নার। ২০০১ সালে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান আমেরিকা অনলাইন-এর সঙ্গে একীভূত হয়ে কোম্পানির নাম হয় এওএল টাইম ওয়ার্নার। পরে আবার নাম ফিরে আসে টাইম ওয়ার্নার।
২০১৮ সালে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এটিএন্ডটি কোম্পানিটি অধিগ্রহণ করে এবং নাম দেয় ওয়ার্নারমিডিয়া। ২০২২ সালে ডেভিড জাসলাভের নেতৃত্বে ডিসকভারি ইনকর্পোরেটেডের সঙ্গে একীভূত হয়ে তৈরি হয় ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি। ২০২৫ সালের শেষ দিকে নেটফ্লিক্স ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির স্টুডিও ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেয়। তারা শেয়ারপ্রতি ২৭ দশমিক ৭৫ ডলারের অফার দেয়।
তবে তারা কেবল স্টুডিও ও অনলাইন পরিষেবা নিতে চেয়েছিল, কেবল টেলিভিশন চ্যানেল নয়। অন্যদিকে প্যারামাউন্ট পুরো প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণের জন্য আগ্রহ দেখায় এবং বারবার প্রস্তাব বাড়াতে থাকে। শেষ পর্যন্ত নবম প্রস্তাবে শেয়ারপ্রতি ৩১ ডলার অফার করে তারা। এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।




















